রাজা ধর্মপাল রাজস্ব ব্যবস্থাকে সুদৃঢ় ও সমৃদ্ধ করেছিলেন। তবে তার পুত্র দেবপাল ক্ষমতায় আরোহণ করে রাজ্য বিস্তারে মনোযোগী হন। তিনি পূর্ব ও দক্ষিণে অনেকগুলো সফল অভিযানের মাধ্যমে বিশাল পাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন। দেবপালের প্রতিটি অভিযানে সক্রিয়ভাবে সহায়তা করেছিলেন তার দুইজন বিশ্বস্ত মন্ত্রী ও কিছুসংখ্যক দক্ষ সেনাপতি।
উদ্দীপকের রাজা ধর্মপালের কর্মকান্ডের সাথে খলিফা আবদুল মালিকের রাজস্ব সংস্কারের সামঞ্জস্য রয়েছে।
খিলাফতে অধিষ্ঠিত হয়ে আবদুল মালিক এক ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের সম্মুখীন হন। তার শাসনামলে নওমুসলিমরা শুধু যাকাত ব্যতীত অন্য কোনো কর দিত না। তাছাড়া অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার জন্য অনারব মুসলমানগণ গ্রাম ছেড়ে শহরে আশ্রয় নেয়। তারা সেনাবাহিনীতে যোগদান করে নিয়মিত ভাতাও পেতে থাকে। এতে চরম অর্থসংকট দেখা দেয়। এর প্রেক্ষিতে আবদুল মালিক রাজস্ব সংস্কার করেন, যার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে উদ্দীপকে।
উদ্দীপকের রাজা ধর্মপাল রাজস্ব ব্যবস্থাকে সুদৃঢ় ও সমৃদ্ধ করেছিলেন। খলিফা আবদুল মালিকও নিজ সাম্রাজ্যের অর্থনৈতিক দুরবস্থা দূর করার জন্য ব্যাপকভাবে কর ব্যবস্থা সুসংহত করেন। এক্ষেত্রে তিনি প্রাদেশিক শাসনকর্তা হাজ্জাজ বিন-ইউসুফের পরামর্শ ও সহযোগিতায় কিছু নীতি গ্রহণ করেন। এগুলো হলো- প্রথমত, ইসলাম গ্রহণ করলেও নবদীক্ষিত। অনারব মুসলমানদের ভূমি রাজস্ব বা খারাজ দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, যেসব নবদীক্ষিত মুসলমান গ্রাম ছেড়ে শহরে এসেছে তাদের শহর ছেড়ে গ্রামে যেতে বাধ্য করা হয়। তৃতীয়ত, ভূমিকর যাতে হ্রাস না পায় সে জন্য আরবীয় মুসলমানগণ কর্তৃক মাওয়ালিদের ভূমি ক্রয় নিষিদ্ধ করেন। চতুর্থত, অনুর্বর ও পতিত জমি তিন বছরের জন্য বিনা রাজছে কৃষকদের মধ্যে বণ্টন করার ব্যবস্থা করা হয়। তিন বছর পর ঐ জমির ফসলের অংশ রাজস্ব ধার্য হয়। এ আলোচনা থেকে বোঝা যায়, রাজা
ধর্মপালের কাজের সাথে খলিফা আবদুল মালিকের কর ব্যবস্থা সংস্কারেরই মিল বিদ্যমান।
আপনি আমাকে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন, যেমনঃ
Are you sure to start over?